স্বামীকে শেষবার দেখতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেলেন ড. দীপু মনি, অশ্রুসিক্ত নয়নে জানালেন শেষ বিদায়
স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর পর তাকে শেষবারের মতো দেখতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি। বুধবার মুন্সীগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তার প্যারোলের আবেদন মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্যারোলের সময় নির্ধারণ করা হয়।
প্যারোলে মুক্তির পর বৃহস্পতিবার সকালে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন দীপু মনি। পরে রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় পৌঁছে স্বামীর মরদেহ দেখেন তিনি। সেখানে তাকে অশ্রুসিক্ত অবস্থায় স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে দেখা যায়।
দীপু মনির আইনজীবী জানিয়েছেন, স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। এর আগে অসুস্থ স্বামীর সঙ্গে দেখা করার জন্যও প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছিল। তবে এবার তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেখা ও দাফন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোল অনুমোদন করা হয়।
পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ প্রথমে কলাবাগানের বাসভবনে নেওয়া হয়। পরে গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজার আয়োজন করা হয় এবং এরপর বনানী কবরস্থানে দাফনের পরিকল্পনা করা হয়।
ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ ১৮ আগস্ট রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
স্বামীকে শেষবারের মতো দেখে বিদায় জানানোর মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। কারাগারে থাকা অবস্থায় স্বজনকে হারানোর এই কঠিন সময়ে মাত্র ১২ ঘণ্টার প্যারোলে পরিবারের পাশে থাকার সুযোগ পান দীপু মনি।
আপনার কী মনে হয়—এমন পরিস্থিতিতে মানবিক কারণে আরও কিছু সময়ের জন্য প্যারোল দেওয়া উচিত ছিল কি? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।