ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক…….see more

ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক—যা জানা গেল

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং সদস্য পদে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা না দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে—এমন একটি দাবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নতুন নিয়ম করা হয়েছে এবং চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর সঙ্গে একটি জাতীয় দৈনিকের নামে কথিত পেপার কাটিংও প্রচার করা হয়।

তবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন পর্যালোচনা করেও চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে এসএসসি কিংবা এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক করার কোনো বিধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি হাইকোর্টে একটি রিট হয়েছে। আদালত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা উচিত কি না, সে বিষয়ে রুল জারি করেছেন। তবে এটি নতুন শিক্ষাগত যোগ্যতা কার্যকর হওয়ার সিদ্ধান্ত নয়

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। হাইকোর্টের রুল এবং বিদ্যমান আইন পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থাৎ বর্তমানে চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং মেম্বার পদে এসএসসি সনদ বাধ্যতামূলক—এমন কোনো নতুন নিয়ম কার্যকর হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ-সংক্রান্ত পোস্ট ও কথিত পেপার কাটিংকে ভুয়া বলে চিহ্নিত করেছে একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান।

তাই ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে নির্বাচন কমিশনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংক্ষেপে: ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং সদস্য পদে এসএসসি সনদ বাধ্যতামূলক—এই খবরটি বর্তমানে গুজব/ভুয়া দাবি। ভবিষ্যতে আইন বা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হলে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমেই তা নিশ্চিত হবে।

Author: Barta Ghor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *