আ.লীগের হেভিওয়েট নেতা সতীশ চন্দ্রের মৃত্যু, রাজনৈতিক অঙ্গনে শোক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায় আর নেই। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের মোস্তফাবাদ এলাকায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্রের বরাতে একাধিক সংবাদমাধ্যম তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী সতীশ চন্দ্র রায় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবেও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রয়েছে।
স্বাধীনতার পর দেশের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা সতীশ চন্দ্র রায় একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি তৎকালীন দিনাজপুর-৭ এবং পরবর্তীতে দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। বিভিন্ন নির্বাচনে তাঁর জয়লাভের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছিলেন তিনি।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সতীশ চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক পথচলা ছিল দীর্ঘ। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে কাজ করার কারণে দিনাজপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ছিল।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি অব্যাহত ছিল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলীয় সংগঠন থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর নিজ এলাকা দিনাজপুরের বিরলসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পরিবার, স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন।
পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে বিরল উপজেলার মোস্তফাবাদ এলাকার পারিবারিক শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
সতীশ চন্দ্র রায় দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবেও তাঁর ভূমিকার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান হলো বলে মনে করছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
তবে তাঁর বয়স নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একাধিক প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ৯৫ বছর বলা হয়েছে, আবার একটি প্রতিবেদনে ৯৭ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বয়সের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারিবারিক বা সরকারি নথির তথ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এই প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোক। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা এবং দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততার কারণে দিনাজপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে সতীশ চন্দ্র রায়ের নাম উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে।