নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, গঠন করা হলো উচ্চপর্যায়ের কমিটি
‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ছয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি করা হয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীকে। কমিটির প্রধান কাজ হবে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা এবং সেটি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করা। প্রয়োজনে কমিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ অন্য কোনো ব্যক্তিকেও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিচারিক সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কী ধরনের সুপারিশ প্রয়োজন, সেটি নির্ধারণ করাই কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তবে প্রতিবেদনের সুপারিশ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে।
নতুন কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী সভা আয়োজন করতে পারবে। এ কাজে কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব অর্থ বিভাগের ওপর রাখা হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের এই কমিটিতে যুক্ত করার ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এটি কোনো মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন বা মন্ত্রীদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পরিবর্তনের ঘটনা নয়; বরং একটি নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশের জন্য গঠিত কমিটিতে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এখন এই কমিটি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কী ধরনের সুপারিশ দেয়, সেটিই দেখার বিষয়। পরবর্তী সময়ে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে।