সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রদানের আদেশ জারির পর সারা দেশে অসংখ্য প্রার্থীর নাম বাদ পড়ার পর ফেসবুকে চলছে সমালোচনার ঝড়।
প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও ভেরিফিকেশনে ‘নেগেটিভ’ রিপোর্টের অজুহাতে অনেক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। সব ধাপ পেরিয়েও শেষ মুহূর্তে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাননি অনেকে।
ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। তেমনই একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের ছেলে রাহুল দাস।
ফেসবুকে নিজের আইডিতে তিনি লিখেছেন, ‘যে মুখ দিয়ে মাকে বলছিলাম মা প্রাইমারিতে চাকরি হয়ে গেছে, সেই মুখ দিয়ে এখন মাকে কীভাবে বলব, মা ভেরিফিকেশনে আমাকে আটকাই দিছে।’
তার ভাষ্য, জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণিকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই সময়ে হাওরে মাছ ধরে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তির চেষ্টা করতে হচ্ছে। সৃষ্টিকর্তা সহায় থাকলে হয়তো এ চাকরি দিয়ে সারাজীবন অতিবাহিত করতে হবে না।
কিন্তু দেশের নীতিনির্ধারকরা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এতদিন বেকার বসিয়ে রেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত না করলেও পারতেন। ওহে দেশের নীতিনির্ধারকগণ, বেকারত্বের মানসিক যন্ত্রণা ও চাপ আপনাদের ওপর যেন অভিশাপ হয়ে না পড়ে, তার আগেই চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এ দীর্ঘ মানসিক যন্ত্রণার অবসান ঘটান।’