সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। এবার মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ মেয়ের দাম্পত্য জীবন নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
মরিয়মের বাবার দাবি, বিয়ের পর তাঁর মেয়ে স্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশে ছিলেন না। বিভিন্ন সময় মেয়ের কাছ থেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ শুনেছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। এসব অভিযোগ পরবর্তীতে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার এজাহারেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
মরিয়মের বাবা তাঁর বক্তব্যে মেয়ের জীবনের শেষ সময়ের পরিস্থিতি নিয়েও নানা কথা বলেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মের ওপর চাপ তৈরি করা হতো। মেয়ের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগের মাধ্যমে এসব বিষয় সম্পর্কে তাঁরা জানতে পারতেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির মধ্যে “মরিয়মকে এমপি নজরুল বিভিন্ন নেতার কাছে পাঠাতেন”—এমন নির্দিষ্ট অভিযোগের নির্ভরযোগ্য স্বাধীন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে এটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রচার করার সুযোগ নেই। তদন্তে যদি এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের নথির মাধ্যমে সেটি যাচাই করা সম্ভব হবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে থাকতেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
মরিয়মের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এদিকে মরিয়মের মৃত্যুর সময় গাজী নজরুল ফ্ল্যাটে ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নজরুল ওই সময় ফ্ল্যাটে থাকার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি এলাকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার পর মরিয়মের কক্ষের দিকে যান এবং দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
মরিয়মের মৃত্যুর পর একটি কথিত আত্মহত্যার নোট নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার এজাহারে তাঁর বাবার বক্তব্য অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের সময় একটি লেখা পাওয়া যায়। তবে সেটি সত্যিই মরিয়মের লেখা কি না, তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, মরিয়মের বাবা তাঁর মেয়ের মৃত্যুর জন্য সরাসরি কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। আসামিরাও আদালতে ন