হিজড়া বা ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের নিয়ে সমাজে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের কৌতূহল ও ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে তাদের শরীর, হরমোন, প্রজননক্ষমতা এবং যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে অনেক কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এসব বিষয়ে সবার শারীরিক বৈশিষ্ট্য একরকম নয়।
প্রথমত, তাদের শারীরিক গঠন সবার একই নয়। ট্রান্সজেন্ডার ও ইন্টারসেক্স মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য একে অপরের থেকে ভিন্ন হতে পারে। তাই একজন ব্যক্তিকে দেখে তার শরীরের ভেতরের সব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
দ্বিতীয়ত, হরমোনের বিষয়টি ব্যক্তিভেদে আলাদা। কেউ হরমোন থেরাপি নিতে পারেন, কেউ নাও নিতে পারেন। হরমোন গ্রহণ করলে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটতে পারে, তবে সবার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের মাত্রা একই হয় না।
তৃতীয়ত, প্রজননক্ষমতা নিয়ে একক কোনো নিয়ম নেই। কারও প্রজননক্ষমতা থাকতে পারে, কারও নাও থাকতে পারে। জন্মগত শারীরিক বৈশিষ্ট্য, চিকিৎসা, হরমোন থেরাপি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ের ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।
এ ছাড়া বাহ্যিকভাবে কাউকে সুন্দর, নারীত্বপূর্ণ বা পুরুষত্বপূর্ণ দেখালেই তার যৌনাঙ্গ, হরমোন বা প্রজননক্ষমতা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এসব বিষয় ব্যক্তিগত এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মাধ্যমে প্রয়োজন হলে নির্ধারণ করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করার সময় কৌতূহলনির্ভর বা অপমানজনক ভাষার পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও সম্মানজনক শব্দ ব্যবহার করা উচিত। কারণ তাদের শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতা ব্যক্তিভেদে অনেকটাই আলাদা হতে পারে।
সবশেষে, ‘তাদের সবার শরীরে একই তিনটি জিনিস থাকে না’—এটাই মূল কথা। ব্যক্তির জন্মগত বৈশিষ্ট্য, লিঙ্গ পরিচয় এবং চিকিৎসাগত ইতিহাস অনুযায়ী শারীরিক পার্থক্য থাকতে পারে।