ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার নতুন অভিযোগ উঠেছে এলপিজি গ্যাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে। ১২ কেজি ওজনের গ্যাস সিলিন্ডারের পরিবর্তে মাত্র ৮ কেজি গ্যাস দিয়ে ১২ কেজির সমান দাম নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে ৪ কেজি গ্যাস কম দেওয়া হলেও ক্রেতাদের কাছ থেকে পুরো ১২ কেজির মূল্য আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বর্তমান সময়ে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য পরিবার। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাসের সুবিধা নেই, সেসব পরিবারের কাছে সিলিন্ডার গ্যাস নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। প্রতিদিনের রান্নাবান্না থেকে শুরু করে পরিবারের অন্যান্য কাজেও এই গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। ফলে সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিমাণ কম দেওয়া হলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ ক্রেতারা।
এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু ক্রেতাদের আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনেরও গুরুতর বিষয়। একজন গ্রাহক যখন ১২ কেজি গ্যাসের দাম পরিশোধ করছেন, তখন তিনি স্বাভাবিকভাবেই পুরো ১২ কেজি গ্যাস পাওয়ার অধিকার রাখেন। সেখানে ৪ কেজি কম পাওয়া মানে প্রতি সিলিন্ডারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের ক্ষতি।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক সাধারণ ক্রেতা সিলিন্ডারে প্রকৃতপক্ষে কতটুকু গ্যাস রয়েছে, তা যাচাই করার পদ্ধতি জানেন না। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা এমন সুযোগ নিতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বাজারে বিক্রি হওয়া গ্যাস সিলিন্ডারগুলো নিয়মিত ওজন করে দেখা, অভিযোগ তদন্ত করা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
প্রশ্ন হচ্ছে, ১২ কেজির দাম দিয়ে ক্রেতারা কেন মাত্র ৮ কেজি গ্যাস কিনবেন? সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এমন অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও প্রতিকার এখন সময়ের দাবি।