এনসিপিতে কী হচ্ছে… more

প্রতিষ্ঠার মাত্র পৌনে দুই বছরে দেশের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান বেশ সুসংহত করেছে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।তবে সম্প্রতি আবার নতুন করে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে দলের ভেতরে ও বাইরে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে,আসলে এনসিপিতে কী হচ্ছে?রাজনীতি সংবাদ বুলেটিন

এনসিপির দাবি, প্রায় সারা দেশেই নিজেদের সংগঠন বিস্তৃত করতে সক্ষম হয়েছে তারা। জেলা, মহানগর এমনকি উপজেলা পর্যায়েও কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।দেশি পোশাক বাছুন

প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ৬টি আসনে জয় পেয়ে সংসদে গেছেন আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ শীর্ষ নেতারা। ২ জন এমপিসহ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন দলটির ৮ নেতা-নেত্রী। ইতোমধ্যে নারী, শিক্ষার্থী, যুব, স্পোর্টস ও ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সসহ একাধিক সহযোগী সংগঠনের কমিটি দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্যও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে এনসিপি। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি ও সংবাদ সম্মেলন করছে দলটি। টেলিভিশন টকশোতে সরব একঝাঁক নেতা-নেত্রী।সংবাদ সাবস্ক্রিপশন

তবে এতকিছুর পরও ক্ষণে ক্ষণে অস্থির হয়ে উঠছে দলটি। কখনও নেতাদের পদত্যাগ, আবার কখন বহিষ্কারের ঘটনায় বারবার সংবাদ শিরোনামে আসছে দলটি। এই সময়ে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করায় আদর্শগত দ্বন্দ্বে দল ছাড়েন এনসিপির একাধিক শীর্ষ নেতা। চলে গেছেন জাতীয়ভাবে পরিচিত বেশ কিছু নারী নেত্রী। এর মধ্যে অন্যতম ডা. তাসনিম জারা ও তাসনূভা জাবীন। সর্বশেষ এই বহরে যুক্ত হয়েছেন আরেক ডাকসাইটে নেত্রী সামান্তা শারমিন। গত ৫ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের পদত্যাগের কথা জানান তিনি। এতে এনসিপির জামায়াত-সংশ্লিষ্টাতাসহ চার কারণের কথা জানান এই নেত্রী।সংবাদ সাবস্ক্রিপশন

তবে একাধিক নেতা-নেত্রী দল ছেড়ে চলে গেলেও এই সময়ে বিভিন্ন দল ও সমাজের নানা অঙ্গনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এনসিপিতে যুক্ত হয়েছেন।রাজনৈতিক দল প্রোফাইল

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির এক যুগ্ম সদস্য সচিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এনসিপির কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তবে বিভিন্ন মতাদর্শের লোকজন একসঙ্গে হওয়ায় এক ধরনের মতবিরোধ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নেতৃত্বের একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির থেকে আসায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কারণ তাদের প্রতি কিছুটা আপত্তি আছে উদারপন্থী অংশটির। আবার দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য নিয়েও ভেতরে-ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি আছে। জামায়াতের সঙ্গে গাঁটছড়া অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ট্যাগিং থেকে মুক্ত হওয়া যাবে না বলে মনে করেন তিনি।দেশি পোশাক বাছুন

যদিও এনসিপির আরেকটি অংশ মনে করে, নতুন দল হিসেবে নিজেদেরকে সংসদ ও রাজপথে প্রাসঙ্গিক করতে তাদেরকে রাজনৈতিক ঐক্য করতে হয়েছে। এসব কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, ভেতরে-ভেতরে ভিন্ন কোনও ‘খেলা’ হচ্ছে না তো?রাজনৈতিক দল প্রোফাইল

পৌনে দুই বছরে পদত্যাগ-বহিষ্কারের যত ঘটনা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীদের নিয়ে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর বাইরেও ডান-বাম থেকে আসা বেশ কিছু নেতা-নেত্রী দলটিতে যুক্ত হন। চব্বিশের জুলাইয়ে মাঠে থাকা তরুণদের বড় একটি অংশ এনসিপিতে যুক্ত হওয়ায় এক ধরনের নতুন মেরুকরণের আভাস মিলে দলটিতে।

তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু নেতাকর্মী সরাসরি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে দল থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। মূলত ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতের সঙ্গে এক প্ল্যাটফর্মে থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়াতেই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

তখন এ বিষয়ে কোনও কোনও নেতা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছিলেন, মতাদর্শগত কারণে এনসিপির সঙ্গে থাকতে চান না তারা। নির্বাচনের আগে থেকে শুরু হওয়া পদত্যাগের ধারাবাহিতা এখনও অব্যাহত আছে।

সর্বশেষ ৫ নভেম্বর শীর্ষ নেত্রী সামান্তা শারমিন পদত্যাগ করেন আদর্শগত কারণ দেখিয়ে।

ফেসবুকে তিনি লিখেন, ‘জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনও ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।’

Author: Barta Ghor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *