হাতে গ্লাভস নয়, নিজেই নেমে পড়লেন অপরিচ্ছন্ন টয়লেট পরিষ্কারে! হাসপাতালের ময়লা-আবর্জনা দেখে শুধু নির্দেশ দিয়েই থেমে থাকলেন না সংসদ সদস্য, বরং নিজ হাতে শুরু করলেন পরিষ্কারের কাজ। তাঁর এমন উদ্যোগ ঘিরে আলোচনায় এসেছে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সবার দায়িত্ববোধের বিষয়টি।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপরিচ্ছন্ন টয়লেট ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা আবর্জনা নিজ হাতে পরিষ্কার করেছেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার খোকন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালটিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে আবর্জনা পরিষ্কারে অংশ নেন তিনি। পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান মনে করে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
আনিছুর রহমান বলেন, শুধু নিজের ঘর পরিষ্কার রাখলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচ্ছন্ন রাখাও সবার দায়িত্ব। এসব প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারোপযোগী ও বাসযোগ্য করে রাখতে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে গেলে সেটিকে নিজের বাড়ির মতো মনে করা উচিত। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের সেবার জন্য তৈরি, তাই এগুলোর যত্ন নেওয়া এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখা সবার কর্তব্য।
সংসদ সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চান। তাঁর কর্মী হিসেবে তাঁরাও জনগণের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা চিকিৎসাসেবা নিতে সেখানে আসেন। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ রোগীদের ভোগান্তি বাড়াতে পারে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ করা এবং নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কার করা জরুরি। তাই শুধু একটি দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়, হাসপাতালটিতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মসূচিতে কালকিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন সরদারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এই উদ্যোগ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—পরিচ্ছন্নতা শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্ব নয়, বরং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সেবাগ্রহীতা, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ—সবারই দায়িত্ব রয়েছে।
আপনার কী মনে হয়, দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ নিয়মিত নেওয়া উচিত?