২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে নির্বাচনের ডামাডোল, পাঁচ ধাপে ইউপি ভোটের সিদ্ধান্ত ইসির
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও নির্বাচনী আমেজ তৈরি হতে যাচ্ছে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সারা দেশে পাঁচ ধাপে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নির্বাচন কমিশনের সভা শেষে এ তথ্য জানানো হয়। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থী, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও চার ধাপে ভোট হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনের তারিখগুলো হলো—
প্রথম ধাপ: ২১ জানুয়ারি ২০২৭
দ্বিতীয় ধাপ: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭
তৃতীয় ধাপ: ২৯ এপ্রিল ২০২৭
চতুর্থ ধাপ: ১৩ মে ২০২৭
পঞ্চম ধাপ: ২৭ মে ২০২৭।
প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ৮১৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন।
প্রার্থীদের প্রস্তুতি ও ভোটারদের প্রত্যাশা
নির্বাচনের তারিখ সামনে আসায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুতি, এলাকাভিত্তিক যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা বাড়তে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হওয়ায় রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, জন্মনিবন্ধন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং এলাকার নানা সমস্যা নির্বাচনী আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে।
তবে কোনো এলাকায় কে প্রার্থী হচ্ছেন, কোন রাজনৈতিক দল কাকে সমর্থন দিচ্ছে কিংবা কার অবস্থান কতটা শক্তিশালী—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পেতে সংশ্লিষ্ট এলাকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ অনুসরণ করা জরুরি।
কবে ঘোষণা হবে বিস্তারিত তফসিল?
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের তারিখ নির্ধারণের পাশাপাশি বিস্তারিত তফসিল, মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণত ভোটের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচনী মাঠে কী হতে যাচ্ছে?
২১ জানুয়ারি থেকে প্রথম ধাপের ভোট শুরু হওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতির নতুন পর্যায় শুরু হলো। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সব মিলিয়ে, পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দেশের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি আনতে পারে। এখন নজর থাকবে বিস্তারিত তফসিল, সম্ভাব্য প্রার্থী এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।