অবশেষে তদন্তে সামনে এলো তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার তথ্য, রাজুর সঙ্গে হোটেলে কত রাত ছিলেন তিনি?
কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে তদন্ত ও সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে তাঁর কক্সবাজার সফরের বিস্তারিত তথ্য। ফেসবুকের মাধ্যমে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর (২০) সঙ্গে পরিচয়ের পর তিনি কক্সবাজারে গিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে হোটেলে অবস্থান, বাড়ি ফেরার বাসযাত্রা এবং পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া অপরাধ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
হোটেলে কত রাত ছিলেন তাজমিন?
১১ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাক ও দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাজমিন ও রাজু ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। হোটেলের রেজিস্টার ও সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে হোটেল ছেড়ে যান। অর্থাৎ, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তাঁরা এক রাত হোটেলে ছিলেন—দুই রাত থাকার দাবি নিশ্চিত নয়।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর লেখা হয়েছিল। তবে তাঁর প্রকৃত বয়স ছিল ১৫ বছর। হোটেলে অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেলেও, শুধু সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কক্ষের ভেতরে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
মাত্র ১৭ দিনের পরিচয়, নাকি আরও আগে থেকে যোগাযোগ?
রাজুর এক সহকর্মীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল প্রায় ১৭ দিন আগে। তবে অন্য একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় আরও আগে থেকে ছিল। ফলে পরিচয়ের সঠিক সময়কাল নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে ভিন্ন তথ্য রয়েছে।
কক্সবাজার থেকে ফেরার পর কী ঘটেছিল?
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর রাজু তাজমিনকে কুমিল্লাগামী বাসে তুলে দেন। রাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার কাছে বাস থেকে নামার পর তাজমিন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। পরে কুমিল্লার লালমাই এলাকায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশি বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রাজুর ভূমিকা নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?
তাজমিনের সঙ্গে কক্সবাজারে যাওয়া এবং পরবর্তী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয় দুটি আলাদা। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজু তাঁকে বাসে তুলে দিয়েছিলেন। তবে শুধু একসঙ্গে হোটেলে অবস্থান বা পরিচয়ের ভিত্তিতে তাঁকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলা যায় না। এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের যাচাই করা তথ্য ও প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথা
তাজমিনের কক্সবাজার সফর নিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি রাজুর সঙ্গে এক রাত হোটেলে ছিলেন; দুই রাত থাকার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। এই মর্মান্তিক ঘটনার সংবাদ পরিবেশনে অনুমান বা অতিরঞ্জনের পরিবর্তে যাচাই করা তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। তাজমিন ছিলেন অপ্রাপ্তবয়স্ক, আর তাঁর মৃত্যুর দায় নির্ধারণ করতে হবে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।