মাত্র ১৭ দিনের পরিচয়ে রাজু নামে এক ছেলের ডাকে সাড়া দিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিল ১৫ বছরের স্কুলছাত্রী তাজমিন!
কুমিল্লায় হ%ত্যা%র শিকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের সঙ্গে রাজু চৌধুরী নামের এক যুবকের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। মাত্র ১৭ দিনের সম্পর্কের সূত্র ধরে রাজুর সঙ্গে কক্সবাজারে গিয়েছিল তাজমিন।
৬ অক্টোবর রাতে রাজু ও তাজমিন কক্সবাজারে বাসের টিকিট কাটতে একটি কাউন্টারে যায়। পরদিন দুপুরে বাসটি কুমিল্লার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বুধবার রাতে কুমিল্লার পদুয়ারবাজারে নেমে বাসায় ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন।
কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ যাত্রা!
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাজমিনকে নির্জন স্থানে নিয়ে নির্যাতন পর গ-লা-য় গামছা পেঁ-চি-য়ে দুনিয়া থেকে বিদায় করে। পরদিন সকালে লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে তাজমিনকে উদ্ধার করা হয়।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, তাজমিনের মা আগে থেকেই মেয়ের বন্ধুবান্ধব ও চলাফেরা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কোনো অঘটন ঘটতে পারে এই আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলেও যেতে দেননি। মেয়েকে আগলে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেয়েকে বাঁচাতে পারেননি।
এখন প্রশ্ন হলো, মাত্র ১৫ বছরের একটি মেয়ে কীভাবে পরিবারের অজান্তে এত দূরে চলে গেল? কেন সে মায়ের কাছে নিজের অবস্থান ও বান্ধবীর পরিচয় স্পষ্ট করে জানাতে পারছিল না? মেয়েটির এমন আচরণের পেছনে কী কারণ ছিল, সেটাও গুরুত্ব দিয়ে বোঝা প্রয়োজন ছিল।
Tulon Bhai
তবে তাজমিনের নিহতের পেছনে আর কারো হাত নেই এটা সুমন নিজেই স্বীকার করেছে৷
একটি ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনা আমাদের সতর্ক করে। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, শিশু-কিশোরদের শুধু শাসন করে বা ঘরে আটকে রেখে নিরাপদ রাখা যায় না। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, অনলাইন পরিচয় ও চলাফেরা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে, যেন বিপদে পড়লে তারা নির্ভয়ে পরিবারের কাছে সবকিছু বলতে পারে।
এমন ঘটনা যেন আর কারো সন্তানের সাথে না হয় 💔