ব্যবসায়ীরা রমজানের আগে ভোজ্য তেলের দাম ১৫ টা’/কা বাড়ানোর পাঁ’য়তারা করতেছে… more

রমজানের আগেই ভোজ্য তেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ানোর উদ্যোগ, বাড়তি খরচের আশঙ্কায় ভোক্তারা
রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রতি লিটার ভোজ্য তেলের দাম ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে—এমন অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ার সময় তেলের দাম বাড়লে পরিবারের মাসিক বাজার খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা।

বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ভোজ্য তেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পণ্য। মাছ, মাংস, সবজি ভাজি থেকে শুরু করে ইফতার ও সাহ্‌রির নানা খাবার তৈরিতেও তেলের ব্যবহার রয়েছে। ফলে এই পণ্যের দাম সামান্য বাড়লেও তার প্রভাব পড়ে প্রায় প্রতিটি পরিবারের বাজারের হিসাবে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষদের জন্য বাড়তি দামের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

রমজান মাস সামনে এলেই বাজারে চাল, ডাল, ছোলা, চিনি, পেঁয়াজ, খেজুর ও ভোজ্য তেলের মতো পণ্যের চাহিদা বাড়ে। এই বাড়তি চাহিদার সুযোগে কোনো পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হলে সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। তাই রমজানের আগে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর এমন উদ্যোগের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি উঠছে।

তবে ব্যবসায়ীরা ঠিক কী কারণে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করছেন, উৎপাদন বা আমদানি ব্যয় কতটা বেড়েছে এবং সরকার এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে—এসব বিষয় নির্ভরযোগ্য তথ্যের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া জরুরি। ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব আর সরকারের অনুমোদিত মূল্য এক বিষয় নয়। তাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

ভোক্তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি, মজুতদারি কিংবা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন।

রমজান মাসে মানুষ যেন স্বাভাবিক দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন, সে জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মূল্যবৃদ্ধির কোনো প্রস্তাব থাকলে তার যৌক্তিকতা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন ক্রেতারা।

সব মিলিয়ে রমজানের আগে ভোজ্য তেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ানোর উদ্যোগের অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করে এবং শেষ পর্যন্ত ভোজ্য তেলের দাম বাড়ে কি না।

Author: Barta Ghor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *