অনুষ্ঠান শেষে পাতিল গুলো গুছানোর সময় ক্লা’ন্ত হয় লোকটি অন্য দিকে তাকিয়ে বললো…See More

অনুষ্ঠান শেষ। অতিথিরা সবাই একে একে বাড়ি ফিরে গেছেন। কিছুক্ষণ আগেও যেখানে ছিল মানুষের কোলাহল, হাসি-আনন্দ আর ব্যস্ততা, সেখানে এখন ধীরে ধীরে নেমে এসেছে নীরবতা। পড়ে আছে রান্নার বড় বড় পাতিল, থালা-বাসন আর অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত নানা সামগ্রী।

সবাই যখন বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন একজন শ্রমজীবী মানুষ চুপচাপ অনুষ্ঠানস্থল গুছিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যস্ত। একের পর এক ভারী পাতিল সরিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় কাজ করার কারণে তার শরীরে তখন স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ।

একপর্যায়ে কিছুটা থেমে অন্যদিকে তাকিয়ে তিনি যেন নিজের মনেই একটি কথা বললেন। কথাটি খুব সাধারণ হলেও তার মধ্যে ছিল জীবনের গভীর বাস্তবতা—সারাদিন অন্যের আনন্দের অনুষ্ঠানে কাজ করলেও দিন শেষে নিজের জীবনের চিন্তা আর পরিবারের দায়িত্বই তাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায়।

তার এই মুহূর্তটি উপস্থিত কারও নজর এড়িয়ে যায়নি। অনেকেই বলছেন, একটি অনুষ্ঠানের পেছনে এমন অসংখ্য মানুষের পরিশ্রম থাকে, যাদের কথা আমরা আনন্দের সময় খুব কমই মনে রাখি।

অতিথিদের হাসিমুখে বিদায় দেওয়া থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা—সব কাজের পেছনেই থাকে শ্রমজীবী মানুষের ঘাম। তাদের শ্রমেই একটি অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে শেষ হয়। অথচ কাজ শেষ হওয়ার পর তাদের ক্লান্ত মুখের দিকে তাকানোর সময় অনেকেরই থাকে না।

দিন শেষে সেই মানুষটির একটি কথাই যেন মনে করিয়ে দিল—অন্যের আনন্দকে সুন্দর করতে যারা নিজের ঘাম ঝরান, তাদের পরিশ্রমের মূল্যায়ন করাও আমাদের দায়িত্ব।

Author: Barta Ghor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *