আ. লীগের ১ নম্বর বিপদ কেটে গেছে। এখনও বিপদ নম্বর ২ অপেক্ষা করছে। সেটা কাটানোর জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে শুরু করবে তারা; লেখা বাহুল্য, ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছে।
কী ছিল প্রথম বিপদ, আর দ্বিতীয় বিপদটাই বা কী? সেটা নিয়ে বলার আগে কয়েকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেওয়া যাক।
একটা ছবি : এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিনের একটা ছবি দেখলাম ফেসবুকে। পোস্টকারীর দাবি, চলমান পর্দায় পরস্পরকে বাক্যবানে জর্জরিত করলেও, পর্দার বাইরে তারা এক অন্যরকম বন্ধুতাপূর্ণ জীবন কাটান।
একটা অডিও: রাষ্ট্রপতি হিসেবে অধ্যাপক ইউনূসের বদলে অধ্যাপক ফখরুলকে নিশ্চিত করার জন্য ড. শেখ হাসিনা বিএনপিকে একটি উড়ো ধন্যবাদ দিয়েছেন। তার ছবির নেপথ্যে অডিও যুক্ত করে সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করছে আ.লীগ।
ভিডিও: ইলিয়াস একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে এই ভূখন্ডের যাবতীয় উন্নয়ন করেছে পশ্চিম পাকিস্তান, গত ৫৫ বছর ধরে সেসব তিলে তিলে নষ্ট করেছে বাংলাদেশ। সেখানে অন্য একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকেও দোষারোপ করা হয়েছে।
এসব ছবি, অডিও, ভিডিওর আড়ালে অনেক কিছু ঘটে, যা সাধারণ মানুষ জানতে বা বুঝতে পারে না। কারণ তাদের এসব বোঝার সুযোগ দেওয়া হয় না। তারা চাল-ডাল, তেল-নুন, গ্যাস-বিদ্যুতের প্যারা সামাল দিতে দিতে, কামলা খেটে খেতে-পরতে আর বাড়ি-অফিস করতে করতেই ফুরিয়ে যাচ্ছে। জানতে পারছে না যে, এক মোড়লের হাত থেকে তারা গিয়ে পড়তে যাচ্ছে আরেক মোড়লের হাতে। কিংবা পুরাতন মোড়ল তার ক্ষমতা ধরে রাখা বা ফিরে পাওয়ার জন্য তৎপর। কী সেই তৎপরতা?
লীগের কঠোর চেষ্টা িছল, অধ্যাপক ইউনূস যাতে কোনোভাবেই রাষ্ট্রপতি হতে না পারেন। নিজেদের বৈদেশিক হাই-কমান্ড ব্যবহার করে তারা সেটা নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া ছোট ছোট চালবাজি তো করেছেই। কারণ ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে কোনোভাবেই তিনি ভারতের পক্ষে কাজ করবেন না। স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া যায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করবেন, তাতে লাভ হবে পাকিস্তানের। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি তার সময়ে তিনি করে গেছেন, সেটার জন্য বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে ভারতকে। তাই বলা যায় লীগের প্রথম বিপদ কেটে গেছে, প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ফখরুল কি ভারতের পক্ষে কাজ করবেন বলে তারা ভাবছে? ভাবছে কি না এ বিষয়ে আমার ভাবনা নাই। তবে ইউনূসের চেয়ে ফখরুল তাদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ। তবে ইউনূস ঠেকানো গেছে, এটাই তাদের প্রথম সাফল্য।
লীগের দ্বিতীয় বিপদ হচ্ছে ইউনূসের রাজনীতিযোগ। তাদের প্রচেষ্টা হচ্ছে অধ্যাপক ইউনূস যেন কোনোভাবেই আবারও তার রাজনৈতিক দলটা শুরু করতে না পারেন। তাদের আশঙ্কা, ওয়ান ফাইন মর্নিং অধ্যাপক ইউনূস হয়তো এনসিপিতে যোগ দিয়ে বসতে পারেন। বিএনপি যে গতিতে এগুচ্ছে, দ্রুত তারা দেশ ও জাতির বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তারপর খেলা শুরু করবে জামাত-এনসিপি। তারা ফ্যাক্ট হয়ে ওঠার আগেই লীগ ফিরতে চায়। যৌক্তিকভাবে অধ্যাপককে পরাস্ত করা কঠিন হলেও অর্ধশিক্ষিত সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে তারা সক্ষম হয়েছেন, ইউনূস পাপী, সুদখোর! তাই যে কোনোভাবে জাতিকে একজন সুদে মহাজনের হাত থেকে রক্ষার জন্য নতুন অনলাইন কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে তারা।
Related Posts