দীর্ঘ অপেক্ষার পর সংসদে ঢাকা-৮ আসনের এমপি মির্জা আব্বাস, প্রথমবার বক্তব্য দিয়ে যা বললেন
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও চিকিৎসা শেষে অবশেষে জাতীয় সংসদে ফিরেছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। দীর্ঘ সময় অসুস্থতার কারণে সংসদের কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারার পর তাঁর সংসদে যোগ দেওয়ার খবর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো যোগ দেন মির্জা আব্বাস। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হুইলচেয়ারে করে তিনি সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁকে স্বাগত জানান সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, রাজনীতি কেবল মতপার্থক্যের বিষয় নয়; রাজনীতি মূলত মানুষের জন্য। সংসদকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর জায়গা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের এই মুহূর্তকে আবেগঘন ও স্মরণীয় বলে বর্ণনা করেন প্রবীণ এই রাজনীতিক। দীর্ঘদিন পর আবার সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি সহকর্মী সংসদ সদস্য, দেশবাসী এবং তাঁর সুস্থতা কামনায় দোয়া করা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘ চিকিৎসার পর সংসদে প্রত্যাবর্তন
চলতি বছরের ১১ মার্চ ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। পরে তাঁকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ মার্চ তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ায় তাঁর চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলে।
প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে ২ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফেরেন তিনি। পরদিন সংসদে যোগ দিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন।
জনগণের জন্য কাজ করতে চান মির্জা আব্বাস
সংসদে বক্তব্যের সময় মির্জা আব্বাস তাঁর সুস্থতা কামনায় দোয়া ও শুভকামনা জানানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাকি সময়টুকু যেন দেশের মানুষ ও নিজের নির্বাচনী এলাকার জনগণের সেবায় ব্যয় করতে পারেন, সে জন্য সবার দোয়া কামনা করেন।
ঢাকা-৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের প্রত্যাবর্তন তাঁর সমর্থক ও সহকর্মীদের কাছেও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সংসদে ফিরে তাঁর বক্তব্যে কৃতজ্ঞতা, আবেগ এবং মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
মির্জা আব্বাসের সংসদে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন করে অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। তবে চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ হয়নি বলেও তিনি সে সময় বক্তব্যে উল্লেখ করেছিলেন।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন ও দ্য ডেইলি স্টারের ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন।