বিয়ের ২০ দিনও পেরোল না, এর মধ্যেই ঘটল এমন কাণ্ড! 😲 সোনার গয়না নিয়ে নববধূ উধাও, পরে যা ঘটল…
নতুন সংসার, নতুন স্বপ্ন—সবকিছু গুছিয়ে ওঠার আগেই দাম্পত্য জীবনে নেমে এলো বড় ধাক্কা! বিয়ের মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে বিপাকে পড়েন জামালপুরের এক বিএনপি নেতা। অভিযোগ, প্রায় ৭ লাখ টাকার সোনার গয়না নিয়ে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন তাঁর স্ত্রী। পরে স্বামীর করা মামলায় পুলিশ দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চলছে আলোচনা।
বিয়ের কয়েক দিনের মাথায় স্ত্রী নিখোঁজ, মামলায় গ্রেপ্তার দুজন
জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের তিন সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই স্ত্রী সুমি আক্তারের (২৭) বিরুদ্ধে স্বামীর দেওয়া সোনার গয়না নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়ির চালক এমদাদুল হক অরচন মিয়ার (৪৫) সঙ্গে তাঁর চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বামী সুজন মিয়া। তিনি ঝাউগড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
প্রতারণা ও সোনার গয়না আত্মসাতের অভিযোগে সুজন মিয়া মামলা করার পর পুলিশ সুমি ও অরচনকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোররাতে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অরচন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমি আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অভিযুক্ত অরচন মিয়া মেলান্দহ উপজেলার শাহজাদপুর এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে সুমি আক্তারের বাড়ি একই উপজেলার কামদেববাড়ী এলাকায়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর রেজিস্ট্রি কাবিননামার মাধ্যমে সুমি আক্তারের সঙ্গে সুজন মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দুটি সোনার আংটি, একটি চেইন, এক জোড়া বালা এবং এক জোড়া কানের দুলসহ বিভিন্ন অলংকার দেন সুজন। এসব গয়নার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
সুজন মিয়ার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সুমির পাতানো মামা হিসেবে পরিচিত অরচন তাঁকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করছিলেন। গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় সুজন বাড়িতে না থাকার সুযোগে অরচন তাঁদের বাড়িতে যান। এ সময় সুমিকে তাঁর বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সুজনের মা ছেলে বাড়িতে ফেরার পর সুমিকে যেতে বললেও তিনি অরচনের সঙ্গে চলে যান। এরপর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না সুজন। সুমির মুঠোফোনে কল করলেও সেটি বন্ধ পান তিনি।
পরদিন স্ত্রীর খোঁজ নিতে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠান সুজন। কিন্তু সেখানেও সুমিকে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজখবর নিতে গিয়ে অরচনের সঙ্গে তিনি চলে গেছেন বলে জানতে পারেন বলে দাবি করেন সুজন।
ঘটনাটি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে সুজন মিয়া বলেন, বিয়ের মাত্র ২০ দিনের মাথায় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। অনেক আশা নিয়ে স্ত্রীকে ঘরে এনেছিলেন বলেও জানান তিনি।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এমদাদুল হক অরচন ও সুমি আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে মামলায় ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায়।
আপনার কী মনে হয়, বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা কতটা জরুরি? মন্তব্য করে আপনার মতামত জানান।