হাতে মেহেদিতে ‘বিআরটিসি’ লিখে পিংক বাস চালালেন নারী চালক, এরপর যা ঘটল
হাতে মেহেদিতে ‘বিআরটিসি’ লিখে পিংক বাসের স্টিয়ারিংয়ে বসে আলোচনায় এসেছেন এক নারী চালক। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের নজর কেড়েছে ঘটনাটি।
নারী চালকের এমন উপস্থিতি যাত্রীদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি করে। সাধারণত গণপরিবহনে নারী চালকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় একজন নারীকে বাস চালাতে দেখে অনেকেই আগ্রহ নিয়ে বিষয়টি জানতে চান। তার হাতের মেহেদিতে ‘বিআরটিসি’ লেখা থাকায় বিষয়টি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
জানা গেছে, পিংক বাসে নারী যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধা ও নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে রেখে নারী চালকদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে। গণপরিবহনে নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং নারী যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ হিসেবে এমন কার্যক্রমকে অনেকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
হাতে মেহেদি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের নাম লেখার বিষয়টিকে অনেকেই ওই চালকের পেশার প্রতি ভালোবাসা ও গর্বের প্রকাশ হিসেবে দেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে নারী চালকের আত্মবিশ্বাস ও কর্মনিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন।
নারী চালকদের গণপরিবহনে অংশগ্রহণ শুধু একটি চাকরির সুযোগ নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে নারীর সক্ষমতারও একটি উদাহরণ। একজন নারী দক্ষতার সঙ্গে বড় যানবাহন পরিচালনা করতে পারেন—এমন দৃশ্য সমাজে ইতিবাচক বার্তা তৈরি করে।
তবে বাস চালানোর ক্ষেত্রে দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং সড়ক নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নারী বা পুরুষ—সব চালকের ক্ষেত্রেই যাত্রীদের নিরাপত্তা সবার আগে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে ওই নারী চালককে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে বলছেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের এমন উপস্থিতি অন্য নারীদেরও আত্মবিশ্বাসী হতে উৎসাহিত করবে। কেউ কেউ আবার গণপরিবহন খাতে আরও বেশি নারীকে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—একজন নারী নিজের পেশাকে ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। হাতে মেহেদিতে ‘বিআরটিসি’ লেখা হয়তো ছোট একটি বিষয়, কিন্তু এর মাধ্যমে নিজের কর্মপরিচয়ের প্রতি গর্বের একটি বার্তা প্রকাশ পেয়েছে।
নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ যত বাড়বে, ততই সমাজে প্রচলিত অনেক ধারণা বদলাবে। পিংক বাসের স্টিয়ারিংয়ে নারী চালকের এমন উপস্থিতিও সেই পরিবর্তনেরই একটি প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।