সচিবদের স্বাক্ষর শেষ, পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়ল?…see more

সচিবদের স্বাক্ষর শেষ, পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়ল?
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সচিব কমিটির সব সদস্য স্বাক্ষর করেছেন। নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি; মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও পরবর্তী সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

নতুন পে-স্কেলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়ার কথা নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের। প্রস্তাবে সব গ্রেডে একই হারে বেতন বাড়ানোর পরিবর্তে তুলনামূলক কম বেতনের কর্মচারীদের বেতন বেশি হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে ২০তম গ্রেড থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে উচ্চ গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার কমে আসবে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। চলতি অর্থবছর থেকেই আংশিক বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে এবং ধাপে ধাপে পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

এর আগে নবম পে কমিশনের প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে সচিব কমিটির চূড়ান্ত প্রস্তাব এবং কমিশনের সুপারিশের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই বর্তমানে প্রচারিত বেতন তালিকাকে চূড়ান্ত সরকারি বেতন কাঠামো হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল নিয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়ে আসছিল। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তাদের মাসিক মূল বেতনের পাশাপাশি অন্যান্য আর্থিক সুবিধাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে বেতন বাড়লেই পুরো বেতন সমপরিমাণ বাড়বে—এমন নয়। মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ। এসব সুবিধা কীভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হবে, তা চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের পরই পরিষ্কার হবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং মূল্যস্ফীতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ফলে সচিব কমিটি সুপারিশ করলেও শেষ পর্যন্ত কত শতাংশ বেতন বাড়বে এবং কোন তারিখ থেকে কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের।

সব মিলিয়ে, সচিব কমিটির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ অতিক্রম করেছে। এখন সরকারি চাকরিজীবীদের নজর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের দিকে। অনুমোদন ও পরবর্তী গেজেট প্রকাশের পরই জানা যাবে—কোন গ্রেডে ঠিক কত টাকা মূল বেতন হবে এবং কার বেতন কতটা বাড়ছে।

নোট: বর্তমানে যে বেতন বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো সচিব কমিটির সুপারিশ/প্রস্তাবের ভিত্তিতে। সরকারি গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে চূড়ান্ত বেতন তালিকা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

Author: Barta Ghor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *